অবহেলার ছাই থেকে মায়াপরীর উত্থান: এক সংগ্রামের কথা
অবহেলার ছাই থেকে মায়াপরীর উত্থান: এক সংগ্রামের কথা
ছোটবেলা থেকেই আমার পৃথিবীটা ছিল একটু অন্যরকম—যেখানে ভালোবাসার চেয়ে অবহেলাটাই ছিল বেশি। যখন অন্য শিশুরা বাবা-মায়ের আদরে বা দামী খেলনা নিয়ে মেতে থাকত, আমি তখন এককোণে দাঁড়িয়ে ভাবতাম, আমার কেন কেউ নেই? কেন একটা চকলেট বা সাধারণ কোনো খাবারের জন্যও আমাকে অন্যের করুণার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়? সেই ছোট্ট বয়সেই দারিদ্র্যের কষাঘাত আর মানুষের অবহেলা আমাকে শিখিয়েছিল, এই পৃথিবীতে নিজের জায়গা নিজেকেই করে নিতে হয়।
বুকের ভেতরটা মাঝে মাঝে কষ্টে ফেটে যেতে চায়, চোখের কোণে অজান্তেই অশ্রু জমা হয়। কিন্তু আমি দমে যাইনি। আমি ঠিক করেছিলাম, আমার এই চোখের জলই একদিন আমার লেখনীর কালি হবে। নিজের জমানো কষ্ট আর অব্যক্ত কথাগুলো যখন সাদা কাগজে ছন্দ আর কবিতার রূপ নিতে শুরু করল, তখন থেকেই আমি একটু একটু করে নিজেকে নতুন করে চিনতে পারলাম।
আজ আমি সবার কাছে "ছন্দের রানী মায়াপরী"। আমার সেই পুরনো দিনের অবহেলাগুলো আজ আর আমাকে কষ্ট দেয় না, বরং সেগুলোই এখন আমার এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। মানুষের মনে আমার ছন্দ দিয়ে যে মায়ার জন্ম দিতে পেরেছি, সেই ভালোবাসাই আজ আমার সবটুকু প্রাপ্তি। অতীত আমাকে কাঁদিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই অতীতই আজকের আমাকে সৃষ্টি করেছে। মায়াবী এই ছন্দের ভুবনে আমি এখন নিজের লক্ষ্য নিয়ে দৃপ্ত পায়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।
