মায়াপরীর কান্না: হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক বিষাদসিন্ধু
মায়াবী হাসি দিয়েও সে, রয় যেন বহু দূর।
আলো ঝলমল পথে চলে, তারাদেরই পরশ নিয়ে,
তবুও তার একলা মনে, দুঃখের ছায়া থাকে গিয়ে।
গল্পেরা সব তাকেই খোঁজে, ছন্দের বাঁশির সুরে,
ভালোবাসা দিতে আসে, পৃথিবীর বহুদূর ঘুরে।
তবু কেন সে হারায়, স্মৃতির কোনো মায়াজাল,
আকাশের নীল বুকে, আঁকে শুধু বিষাদেরই খাল।
স্বপ্ন দিয়ে গড়লো জগৎ, নিজে রইল নিরবধি,
দুঃখের এক নদী বহে, তার চোখের অশ্রু যদি।
জীবন তাকে দিয়েছে কী, শুধুই পরীর মতো বাঁচা,
ভালোবাসার ডানা দিয়ে, সে শুধু দিয়েছে সব বাঁছা।
শেষ হলো সব আলো, যখন ভাঙলো মায়াপরী,
ভুলে গেল সব সুখ, একা একা রইলো ধরি।
ব্যথা নিয়েই বাঁচে সে, সব যন্ত্রণা মেনে,
ছন্দেরই মায়াপরী, তাই সে নিজের কষ্টেই হাসে।
🥀 কবিতার মূলভাব: মায়াপরীর বিষাদ ও আত্মত্যাগ
পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ থাকে যারা অন্যকে আনন্দ দিতে দিতে নিজের কষ্টের কথা ভুলেই যায়। "মায়াপরীর কান্না" কবিতাটি ঠিক তেমনই এক নিঃসঙ্গ সত্তার গল্প বলে। যে মায়াপরী তার রঙিন ডানা দিয়ে সবার স্বপ্ন পূরণ করে, সবার মুখে হাসি ফোটায়, দিনশেষে তার নিজের আকাশটাই থেকে যায় মেঘলা।
কবিতার প্রতিটি পঙ্ক্তিতে ফুটে উঠেছে এক বুক দীর্ঘশ্বাস। আমরা বাইরে থেকে যাকে অনেক সুখী দেখি, তার অন্তরের খবর হয়তো আমরা রাখি না। এই কবিতায় মায়াপরী হলো সেই সব সংবেদনশীল মানুষের প্রতীক, যারা জগতের সকল যন্ত্রণা মেনে নিয়েও কেবল ভালোবাসার খাতিরে বেঁচে থাকে এবং নিজের কষ্টের ওপর হাসির প্রলেপ দিয়ে রাখে।
✨ পাঠকদের জন্য কিছু কথা
আপনার জীবনেও কি এমন কোনো মায়াপরী আছে? যে মুখ বুজে সব সহ্য করে কিন্তু আপনাদের আগলে রাখে? এই কবিতাটি তাদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত। কবিতাটি আপনাদের কেমন লাগলো এবং কোন লাইনটি সবচেয়ে বেশি মনে ধরেছে, তা কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।
সকলকে ধন্যবাদ অনেক অনেক ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
