আর.টি রিফাত এর "হাসনাহেনা": এক অবিনশ্বর প্রেমের কাব্যিক আখ্যান
হাসনাহেনা
আর.টি রিফাত-এর কাব্যগ্রন্থ থেকেআমার চিলের কোঠার পাশে-
নিস্তব্ধ নীরবতার মহল, এক তরুলতা
যার স্নিগ্ধ গন্ধ, খুঁজতো রোজ ভালোবাসা।
আমার স্বপ্নায়িত মহলের ছাদে,
মেঘপুঞ্জে- শুক্লাকাশে নক্ষত্রের রাতে
তোমার দেয়া হাসনাহেনা,
নিয়ে এলো ভালোবাসার নীলিমা।
তাই আমার তরুলতা- বেলি ফুল,
হারিয়ে ফেলেছে তার কূল।
হারিয়ে ফেলেছে তার সৌন্দর্য, গৌরব-
হাসনাহেনায় মগ্ন তার সব।
সে আমারে করে ছিন্ন ভব,
হয়েছে আমার বেঁচে থাকার সব!!
কবিতার মূলভাব: হৃদয়ের গহীনে একাকীত্বের রূপান্তর
'হাসনাহেনা' কবিতাটি মূলত মানুষের অন্তহীন একাকীত্ব এবং সেই শূন্যতা পূরণের এক কাব্যিক আর্তি। কবিতার পরতে পরতে ফুটে উঠেছে কীভাবে একটি সাধারণ প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ মানুষের সম্পূর্ণ সত্তাকে গ্রাস করে নিতে পারে। এখানে 'নিস্তব্ধ নীরবতার মহল' বলতে কবির নিজের একাকী জীবনকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে তিনি প্রতিদিন নিঃশব্দে একবিন্দু ভালোবাসার সন্ধান করতেন।
কবিতাটির মূল দর্শন লুকিয়ে আছে এর 'রূপান্তর' প্রক্রিয়ায়। প্রিয়জনের উপহার দেওয়া 'হাসনাহেনা'র আগমনে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেল এবং কবির নিঃসঙ্গ জগতকে 'ভালোবাসার নীলিমা'য় ভরিয়ে দিয়েছে। বিশেষ কারো দেওয়া স্মৃতির তীব্রতা এতটাই বেশি যে, তা কবির জীবনের আগের সব সাধারণ ভালো লাগা বা বেলি ফুলের গৌরবকেও ম্লান করে দিয়েছে।
কিছু কথা: জীবন, প্রকৃতি ও অনুভূতির রসায়ন
বাঙালির আবেগে 'চিলের কোঠা' মানেই এক চিলতে স্বাধীনতা, যেখানে মানুষ নিজের সাথে নিজে কথা বলে। কবি যখন খোলা আকাশের নিচে তার চিলের কোঠার পাশে এই হাসনাহেনার গন্ধ পান, তখন তা আমাদের হৃদয়ের সেই গোপন কক্ষটির কথা মনে করিয়ে দেয় যেখানে আমরা আমাদের স্বপ্নগুলো লুকিয়ে রাখি।
বাস্তব জগত যতটাই কঠিন হোক না কেন, মনের ভেতরটা সব সময় 'স্বপ্নায়িত' থাকে। মেঘপুঞ্জ আর নক্ষত্রের রাতে যখন প্রিয়জনের স্মৃতি সামনে আসে, তখন সাধারণ রাতও অসাধারণ হয়ে ওঠে। এই কবিতাটি সেই মুহূর্তের উদযাপন যা মানুষকে বেঁচে থাকার নতুন রসদ দেয়। বেলি ফুল বনাম হাসনাহেনার যে তুলনা কবি দেখিয়েছেন, তা আসলে জীবনের বিশেষ কোনো অধ্যায়ের প্রতি সম্পূর্ণ সমর্পণের এক গভীর বহিঃপ্রকাশ।
আর.টি রিফাত-এর কাব্যগ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। অনুমতি ব্যতীত পুন:প্রকাশ নিষিদ্ধ।